তোমরা সত্যকে মিথ্যের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না। @@ surah baqara ayat 42 Al Quran 2:42 @@

শবে কদর ২০২৫ কত তারিখে? এবার কি কি আমল করবেন

শবে কদর ২০২৫ কত তারিখে? এবার কি কি আমল করবেন
শবে কদর ২০২৫ কত তারিখে?

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য অন্যতম পবিত্র রাত। ফার্সি ভাষায় “শাব” এবং আরবি ভাষায় “লাইলাতুল” শব্দের অর্থ রাত বা রজনী, আর “কদর” মানে সম্মান, মর্যাদা ও ভাগ্য। এজন্য এই রাতকে অনেকেই “অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত” বলে ডাকে।

শবে কদর ২০২৫ কত তারিখে?

শবে কদর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে রোজার শেষ দশকের বেজোড় রাতের একটিতে। তবে সাধারণত ২৭ রমজানকে ধরে তা হতে পারে, ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবারে। তবে ২১ রমজানের রাতেও লাইলাতুল কদর এর হাদীস রয়েছে।

লাইলাতুল কদর পালন করা কি বিদা’আত?

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৩৫)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৪) রেফারেন্সঃ

শবে কদরের ইতিহাস

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র রাতগুলোর মধ্যে একটি। এটি সেই রাত, যখন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল। জাবালে নূর পাহাড়ের হেরা গুহায় ধ্যানকালে হযরত জিবরীল (আঃ) এর মাধ্যমে সূরা আলাক এর প্রথম ৫ আয়াত নাযিল হয়। এ রাত এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সম্পূর্ণ একটি সূরা নাযিল হয়। সূরা কদরে (আয়াত ১-৫) বলা হয়েছে,

“নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।”

শবে কদরের রাতে হেরা গুহায় কোরআন নাযিল হয়
শবে কদরের রাতে হেরা গুহায় কোরআন নাযিল হয়

শবে কদর কেন গুরুত্বপূর্ণ

আল্লাহর নির্দেশে মোহাম্মদ (সা.) এর পূর্ববর্তী নবি এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করেন। কোরআন ও হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়, ইসলামের চার জন নবি যথা আইয়ুব, জাকরিয়া , হিযকীল ও ইউশা ইবনে নূন প্রত্যেকেই আশি বছর স্রষ্টার উপাসনা করেন এবং তাদের জীবনে কোন প্রকার পাপ ছিলো না। তারা বহু বছর আল্লাহর ইবাদাত করার সুযোগ পেতেন।

অপরদিকে মুহাম্মদ (সা.) থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী অনুসারীগণের আয়ু অনেক কম হওয়ায় তাদের পক্ষে সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করে পূর্ববর্তীতের সমকক্ষ হওয়া সম্ভপর নয় বলে তাদের মাঝে আক্ষেপের সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষিতে তাদের চিন্তা দুর করার জন্য সুরা কদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়। আরো জানুনঃ আজকের সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়সূচি: Sehri & Iftar Time Today

শবে কদর চেনার উপায়

শবে কদর কবে তা চেনার কিছু উপায় হাদীসে পাওয়া যায়ঃ

১. সে রাতে গভীর অন্ধকার থাকবে না।

২. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হবে। সে রাত হবে নাতিশীতোষ্ণ।

৩. মানুষ সে রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে তৃপ্তি পাবে।

৪. এ রাতে কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক রাত সম্পর্কে জানাতে পারেন।

৫. এ রাতে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হতে পারে।

৬. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।

লাইলাতুল কদর যে  প্রতি বছর কোন একটি নির্দিষ্ট বিজোড় রাত্রিতেই তা হয় না। (অর্থাৎ কোন বছর ২৫ তারিখে হল, আবার কোন বছর ২১ তারিখে হল এভাবে। আমাদের দেশে সরকারী আর বেসরকারীভাবে জাঁকজমকের সঙ্গে ২৭ তারিখের রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদরের রাত হিসেবে পালন করা হয়। এভাবে মাত্র একটি রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদর সাব্যস্ত করার কোনই হাদীস নাই।

লাইলাতুল কদর
লাইলাতুল কদর 2025

লাইলাতুল ক্বদরের সওয়াব পেতে চাইলে ৫টি বিজোড় রাত্রেই তালাশ করতে হবে।  বর্তমানে রাত্রি জাগরণের জন্য মসজিদে সকলে সমবেত হয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের যে ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে সেটিও নবাবিষ্কৃত কাজ। কারণ আল্লাহর নাবী (সাঃ) তাঁর সময়ে সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে জাগরিত হয়ে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ইবাদাত না করে নিজ নিজ পরিবারকে জাগিয়ে কিয়ামুল লাইল পালন করতেন।

শবে কদরের আমল কি?

সহীহ হাদীস অনুযায়ী শবে ক্বদরে মুসলমানরা বিভিন্ন ইবাদত ও আমল করতে পারে। তবে বিদআত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো: –

১। এশা এবং ফজর এর নামাজ অবশ্যই জামাআতে পালন করা।

২। সম্মিলিত আমলের চেয়ে ব্যক্তিগত আমলে মনোনিবেশ করা।

৩। নিজে জাগা ও পরিবারকে জাগানো

৪। বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা।

৫। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।

৬। গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৭। যতই অল্প পরিমান হোক, গোপনে সদকা বা দান করা।

শবে কদরের দোয়া কি?

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে:-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

এ ছাড়াও –

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)

 

رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)

 

رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’

অর্থ: ‘(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)

 

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)

 

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

 

سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

উচ্চারণ: ‘সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।’

অর্থ: ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-বাকারাহ : আয়াত ২৮৫)

 

رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا

উচ্চারণ: ‘ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ২৮৬)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)

 

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!