তোমরা সত্যকে মিথ্যের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না। @@ surah baqara ayat 42 Al Quran 2:42 @@

প্রাইজবন্ড কি আপনার কেনা উচিত? কিনলে রেজাল্ট কিভাবে দেখবেন

প্রাইজবন্ড কি আপনার কেনা উচিত? কিনলে রেজাল্ট কিভাবে দেখবেন
প্রাইজবন্ড কি আপনার কেনা উচিত? কিনলে রেজাল্ট কিভাবে দেখবেন

বাংলাদেশে সঞ্চয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও নিরাপদ মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড। সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করতে সরকার এই বিশেষ বন্ড চালু করে। অনেক সময় আমরা না বুঝেই প্রাইজবন্ড কিনি, কিন্তু আসলেই প্রাইজবন্ড কি আপনার কেনা উচিত কিনা এবং কিনলেও রেজাল্ট দেখার নিয়ম না জানার কারণে বড় অংকের পুরস্কার হাতছাড়া হয়ে যায়।

আপনি যদি প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগ করতে চান, তবে এর সুবিধা, অসুবিধা এবং প্রাইজবন্ড ড্র রেজাল্ট দেখার নিয়ম সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। আজকের নিবন্ধে আমরা প্রাইজবন্ডের আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করব।

Table of Contents

প্রাইজবন্ড কি? (What is Prize Bond?)

প্রাইজবন্ড হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রচলিত এক ধরণের সঞ্চয় ইনস্ট্রুমেন্ট। এটি একটি বিয়ারার বন্ড (Bearer Bond), অর্থাৎ যার কাছে বন্ড থাকবে, তিনিই এর মালিক। এটি অনেকটা কাগজের মুদ্রার মতো, তবে এতে সুনির্দিষ্ট কোনো সুদ বা মুনাফা সরাসরি দেওয়া হয় না।

এর পরিবর্তে, লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের বড় অংকের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রচলিত রয়েছে। এটি কিনলে মূল টাকা হারানোর কোনো ভয় নেই, কারণ যেকোনো সময় এটি ব্যাংকে জমা দিয়ে সমপরিমাণ নগদ টাকা ফেরত নেওয়া যায়।

মনে রাখবেন: প্রাইজবন্ড একটি সুদমুক্ত সরকারি বিনিয়োগ মাধ্যম, যেখানে কেবল লটারির মাধ্যমেই আর্থিক লাভ সম্ভব।

প্রাইজবন্ড কেনার আগে যা জানা জরুরি

প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগ করার আগে একজন সচেতন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার নিচের বিষয়গুলো জেনে রাখা উচিত:

১. কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই

প্রাইজবন্ডের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। আপনি আজ কিনে কালই এটি বিক্রি করে দিতে পারেন। তবে লটারিতে অংশ নিতে হলে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে বন্ডটি কিনতে হয়।

২. পুরস্কারের পরিমাণ ও ট্যাক্স

প্রাইজবন্ডের ড্র বছরে চারবার (৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা। মনে রাখবেন, পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০% উৎসে কর (Tax) সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।

৩. নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ

যেহেতু এটি একটি বিয়ারার বন্ড, তাই এটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে এর মালিকানা দাবি করা প্রায় অসম্ভব। তাই বন্ডের নম্বর লিখে রাখা বা ফটোকপি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।


প্রাইজবন্ড ড্র রেজাল্ট দেখার নিয়ম

প্রাইজবন্ড ড্র রেজাল্ট দেখার নিয়ম
প্রাইজবন্ড ড্র রেজাল্ট দেখার নিয়ম

 

প্রাইজবন্ড কেনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত রেজাল্ট চেক করা। **প্রাইজবন্ড ড্র রেজাল্ট দেখার নিয়ম** মূলত ৩টি মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়:

  • সরকারি গেজেট বা পত্রিকা: ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পরের দিন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ড্র-এর ফলাফল পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: আপনি সরাসরি bb.org.bd সাইটে গিয়ে ‘Prize Bond Search’ অপশনে আপনার নম্বরটি দিয়ে যাচাই করতে পারেন।
  • মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন: স্মার্টফোনে ‘Prize Bond Checker’ অ্যাপ ডাউনলোড করে আপনার বন্ডের সিরিজ সেভ করে রাখলে অটোমেটিক নোটিফিকেশন পাওয়া যায়।

প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধা

বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা
ঝুঁকি সরকারি গ্যারান্টি, মূল টাকা ১০০% নিরাপদ। নির্দিষ্ট কোনো সুদের হার বা মুনাফা নেই।
তরলতা যেকোনো সময় ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে ক্যাশ করা যায়। হারিয়ে গেলে টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো আইনি উপায় নেই।
পুরস্কার লটারির মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জেতার সুযোগ। ড্র-তে নাম না উঠলে কেবল মূল টাকাই ফেরত পাওয়া যায়।

পুরস্কারের টাকা দাবি করার পদ্ধতি

যদি আপনার প্রাইজবন্ড লটারিতে বিজয়ী হয়, তবে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে। বিজয়ীকে মূল বন্ডসহ নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পুরস্কারের টাকা (ট্যাক্স কেটে) প্রদান করা হয়। আরো জানুন সত্যকন্ঠতে

আপনার প্রাইজবন্ড কি চেক করেছেন?

সর্বশেষ ড্র-এর রেজাল্ট এবং আপনার বন্ড নম্বরটি বিজয়ী কি না জানতে আমাদের অটো-চেকার ব্যবহার করুন।

রেজাল্ট চেক করুন

 

প্রাইজবন্ড সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. প্রাইজবন্ড ড্র ২০২৬ কবে হবে?

প্রাইজবন্ডের ড্র বছরে চারবার অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের ড্রগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর।

২. প্রাইজবন্ড বলতে কি বুঝায়?

প্রাইজবন্ড হলো সরকার কর্তৃক প্রচলিত এক ধরণের সুদমুক্ত সঞ্চয় মাধ্যম, যেখানে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

৩. প্রাইজবন্ড ড্র ১২২ তম ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে?

১২২ তম প্রাইজবন্ড ড্র ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকে পাওয়া যাবে।

৪. প্রাইজবন্ড ড্র চেক করার সহজ নিয়ম কি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ‘Prize Bond Checker’ ব্যবহার করে খুব সহজেই প্রাইজবন্ড চেক করা যায়।

৫. ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কোথায় পাওয়া যায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল শাখা, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং সঞ্চয় ব্যুরো থেকে ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কেনা ও ক্যাশ করা যায়।

৬. প্রাইজবন্ডের টাকা কিভাবে পাওয়া যায়?

বিজয়ী বন্ডটি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে পুরস্কারের টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

৭. প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের টাকা কতদিন পর্যন্ত দাবি করা যায়?

যেকোনো ড্র-এর পুরস্কারের টাকা ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ২ (দুই) বছর পর্যন্ত দাবি করা যায়।

৮. প্রাইজবন্ড বছরে কতবার ড্র হয়?

প্রাইজবন্ড বছরে মোট চারবার ড্র হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর নির্ধারিত তারিখে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

৯. ৭৫০ টাকার প্রাইজবন্ডের দাম কত?

বর্তমানে বাংলাদেশে ৭৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রচলিত নেই। এখন শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু আছে।

১০. প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কারের পরিমাণ কত?

প্রতিটি সিরিজের জন্য প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কারের পরিমাণ হলো ৬ লক্ষ টাকা।

১১. প্রাইজবন্ড কিনলে কি লস হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

না, প্রাইজবন্ডে লস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এর মূল টাকা সরকার কর্তৃক গ্যারান্টিযুক্ত এবং যেকোনো সময় ফেরতযোগ্য।

১২. প্রাইজবন্ড ড্র ২০২৫ ফলাফল ১২১ ও ১২২ কোথায় পাব?

২০২৫ সালের ১২১তম (অক্টোবর) ও ১২২তম (জানুয়ারি ২০২৬) ড্র-এর ফলাফল আমাদের ওয়েবসাইটের আর্কাইভ সেকশনে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইটে পাবেন।

১৩. ১৫০০ টাকার প্রাইজবন্ডের প্রথম দাম কত?

বর্তমানে ১৫০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড প্রচলিত নেই। অতীতে এটি থাকলেও এখন ১০০ টাকার বন্ডই প্রধান বিনিয়োগ মাধ্যম।

১৪. প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের ওপর ট্যাক্স কত?

আয়কর আইন অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০% হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়।

১৫. প্রাইজবন্ডের সিরিজ বলতে কি বোঝায়?

প্রাইজবন্ডের প্রতিটি সংখ্যার বিপরীতে একটি ইংরেজি অক্ষর থাকে (যেমন: কগ, খঝ)। এই অক্ষরগুচ্ছকেই সিরিজ বলা হয়। বর্তমানে প্রায় ৮০টির বেশি সিরিজ বাজারে আছে।

১৬. প্রাইজবন্ড হারিয়ে গেলে কি টাকা পাওয়া যায়?

এটি একটি বিয়ারার বন্ড হওয়ায় হারিয়ে গেলে টাকা পাওয়া কঠিন। তবে আগে থেকে নম্বর ও সিরিজ নোট করা থাকলে থানায় জিডি করে চেষ্টা করা যেতে পারে।

১৭. কত মাস পুরনো বন্ড ড্র-এর আওতায় আসে?

বন্ড কেনার তারিখ থেকে কমপক্ষে ২ মাস অতিবাহিত না হলে সেটি ওই ড্র-এর জন্য যোগ্য বিবেচিত হয় না।

১৮. বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ড্র কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

সাধারণত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বড় অডিটোরিয়ামে সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

১৯. একটি বন্ড কতবার জেতার সম্ভাবনা থাকে?

যতদিন বন্ডটি আপনার কাছে থাকবে, প্রতি ৩ মাস অন্তর অনুষ্ঠিত প্রতিটি ড্র-তে সেটি জেতার সম্ভাবনা বজায় থাকে।

২০. প্রাইজবন্ড কি ব্যাংক একাউন্টের মতো নিরাপদ?

হ্যাঁ, এটি সরকারি বন্ড হওয়ায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ। তবে এটি কাগজের ফর্মে থাকায় চুরি বা আগুন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব মালিকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!