তোমরা সত্যকে মিথ্যের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না। @@ surah baqara ayat 42 Al Quran 2:42 @@

স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারের ৫টি সুবিধা

স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারের ৫টি সুবিধা
স্টারলিংক ইন্টারনেট

আগামী ৯ এপ্রিল, বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা স্টারলিংক ইন্টারনেট এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবার নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে। তবে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার আগেই ঢাকার একটি হোটেলে এই নতুন প্রযুক্তির স্পিড পরীক্ষা করা হয়েছে।

এই পরীক্ষার ফলাফল শেয়ার করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন,

“আজ ঢাকার একটি হোটেলে স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি।”

স্টারলিংক ইন্টারনেট এর স্পিড কত?

পোস্টে শেয়ার করা ছবি অনুযায়ী, এর ডাউনলোড স্পিড ছিল ২৩০ এমবিপিএস এবং আপলোড স্পিড ছিল ২০ এমবিপিএস। এ সময় ইন্টারনেটের ল্যাটেন্সি ছিল ৫০-৫৩ মিলিসেকেন্ড (ms)।

এ সময় স্টারলিংকের সার্ভার ছিল সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে , তবে ক্লায়েন্ট লোকেশন দেখাচ্ছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। যা ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের সার্ভার এখনও স্থাপন করা হয়নি, তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে, দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্টারলিংককে স্থানীয় ইন্টারনেট সার্ভার (আইআইজি) ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে, ইন্টারনেট সেবার মান ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ সরকারের অধীনে থাকবে।

বাংলাদেশে স্টারলিংক চালু কবে থেকে?

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৫ : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। চলতি মাসে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বর্তমানে নিচের দেশগুলোতে স্টারলিংক কানেকশন আছেঃ

কোন কোন দেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট আছে?
কোন কোন দেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট আছে?

স্টারলিংক কী?

স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট প্রকল্প। এর উদ্দেশ্য পৃথিবীর যেকোনো স্থানে হাইস্পিড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা।

কীভাবে কাজ করে?

স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো-আর্থ-অরবিট বা LEO) স্যাটেলাইট স্থাপন করে। এই স্যাটেলাইটগুলো ভূ-পৃষ্ঠের স্টেশনগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। লেজার লিংকের মাধ্যমে স্যাটেলাইটগুলো একে অপরের সঙ্গে ডেটা বিনিময় করে, যা উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করে।

স্টারলিংকের খরচ কত?

স্টারলিংক ব্যবহারের জন্য একটি স্যাটেলাইট ডিশ, রাউটার ও মোবাইল অ্যাপ প্রয়োজন। যন্ত্রাংশগুলো কিনতে এককালীন প্রায় ৫৯৯ ডলার খরচ হতে পারে। অপরদিকে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি প্রায় ১১০ ডলার হতে পারে।

স্টারলিংক সেটাপ কিভাবে করে?

স্যাটেলাইট ডিশটি আকাশমুখী স্থাপন করে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হয়। রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সিগন্যাল যেকোন ডিভাইসে বিতরণ করা হয়। মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে কানেকশন সেটিং নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া সহজ, তবে সঠিক কার্যকারিতার জন্য ডিশটি খোলা আকাশের দিকে স্থাপন করতে হবে। আরো জানুনঃ সঠিক CV লেখার নিয়ম: একাধিক চাকরির জন্য ব্যবহার করুন

স্টারলিংক ব্যবহারের ৫টি সুবিধা

স্টারলিংক ব্যবহারের ৫টি সুবিধা
স্টারলিংক ব্যবহারের ৫টি সুবিধা অসুবিধা

১. উচ্চগতির ইন্টারনেট – শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় সমান গতি  স্টারলিংক শহর ও প্রান্তিক অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। এতে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় সমান ইন্টারনেট গতি পাওয়া সম্ভব। ​

২. লো ল্যাটেন্সি – অনলাইন গেমিং ও লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা  স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করায় ল্যাটেন্সি কম হয়। এতে অনলাইন গেমিং ও লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং আরও সহজ ও দ্রুতগতির হয়। ​

৩. অপটিক্যাল ফাইবারের বিকল্প – যেখানে ব্রডব্যান্ড নেই, সেখানে কার্যকর সমাধান ।যেসব স্থানে অপটিক্যাল ফাইবার বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছেনি, সেখানে স্টারলিংক কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে প্রত্যন্ত এলাকায়ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। ​

৪. সহজ সেটআপ ও মোবিলিটি – যে কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ।স্টারলিংক কিটের সেটআপ প্রক্রিয়া সহজ এবং এটি সহজে বহনযোগ্য। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী এটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারেন। ​

৫. প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ইন্টারনেট সংযোগ স্টারলিংক স্যাটেলাইট-ভিত্তিক হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়েও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা সম্ভব। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা সহজ হয়।

স্টারলিংকের ৫টি অসুবিধা

১. উচ্চমূল্য – বাংলাদেশের জন্য মাসিক খরচ বেশি  স্টারলিংক সেবার জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম ও মাসিক ফি বাংলাদেশের অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে। হার্ডওয়্যার ফি প্রায় ৫৯৯ ডলার এবং মাসিক সেবা ফি প্রায় ১২০ ডলার।

২. খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব – বৃষ্টি ও মেঘলা দিনে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে  বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়ায় স্যাটেলাইট সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে, যা ইন্টারনেট সেবার গতি ও স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।​

৩. সীমিত কভারেজ – বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে উপলব্ধ  স্টারলিংক সেবা বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমিত। বাংলাদেশে সেবাটি চালু হওয়ার প্রক্রিয়াধীন। ​

৪. সরকারি অনুমোদন ও নীতিমালা সংক্রান্ত জটিলতা  স্টারলিংক সেবা চালুর জন্য সরকারি অনুমোদন ও নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশে সেবাটি চালুর জন্য এ বিষয়ে কাজ চলছে। ​

৫. প্রচলিত ব্রডব্যান্ডের তুলনায় স্থিতিশীলতা কিছুটা কম  এই উন্নত ইন্টারনেট সেবা কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্রডব্যান্ডের তুলনায় কম স্থিতিশীল হতে পারে, বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ায়।

স্টারলিঙ্ক কী?
স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট

স্টারলিংক সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

১. স্টারলিঙ্ক কী?

স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) থাকা হাজারো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে। উইকিপিডিয়া

২. স্টারলিংক দিয়ে কি করা যায়?

স্টারলিংক ব্যবহার করে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়, যা অনলাইন ব্রাউজিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং, রিমোট কাজ ও ব্যবসার জন্য উপযোগী।

৩. স্টারলিংক মিনি প্রতি মাসে কত?

স্টারলিংক মিনি (ছোট সংস্করণ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসেনি। তবে স্টারলিংকের নিয়মিত সেবার জন্য মাসিক ফি সাধারণত $৯৯ থেকে $১২০ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

৪. স্টারলিংক ডিভাইস কি?   স্টারলিংক ডিভাইস বলতে একটি বিশেষ স্যাটেলাইট রিসিভার ডিশ, রাউটার ও সংযোগকারী কিট বোঝায়, যা ব্যবহারকারীদের স্টারলিংকের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে।

৫. স্টারলিংক এর মালিক কে?

স্টারলিংক স্পেসএক্স (SpaceX) কোম্পানির মালিকানাধীন, যা ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠিত একটি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

৬. স্টারলিংক এ কিভাবে ফোন করতে হয়?

স্টারলিংক মূলত ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে, সরাসরি ফোন কলের সুবিধা নেই। তবে ভিওআইপি (VoIP) সার্ভিস বা ইন্টারনেট-ভিত্তিক কলিং অ্যাপ (যেমনঃ WhatsApp, Zoom) ব্যবহার করে কল করা যায়।

৭. স্টারলিংক কোন মোবাইলে কাজ করে?

স্টারলিংক সরাসরি মোবাইলে কাজ করে না। তবে স্টারলিংক রাউটারের মাধ্যমে ওয়াইফাই সংযোগ তৈরি করে, যা যেকোনো স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে ব্যবহার করা যায়।

৮. স্টারলিংক কিভাবে কাজ করে?

স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেয়। একটি স্টারলিংক কিট ব্যবহার করে এই স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়।

৯. স্টারলিংক মোবাইলে ব্যবহার করা যাবে কি?

বর্তমানে স্টারলিংক সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্ক হিসাবে কাজ করে না। তবে ভবিষ্যতে স্টারলিংক মোবাইল পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে।

১০. স্টারলিংক কতবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে?

স্টারলিংক প্রতি মাসে একাধিকবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫,০০০-এর বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

১১. স্টারলিংক স্যাটেলাইট কত বড়?

প্রতিটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রায় ২.৮ মিটার লম্বা ও ২৬০ কেজি ওজনের হয়।

১২. বাংলাদেশে স্টারলিংক ব্যবহার করা যাবে কি?

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৫ : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন।

১৩. স্টারলিংক কত স্পিড দিতে পারে?

স্টারলিংক সাধারণত ৫০ এমবিপিএস থেকে ২৫০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি দিতে পারে, তবে স্টারলিংক প্রিমিয়াম সংস্করণ ৫০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি প্রদান করে।

১৪. স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার জন্য কী কী দরকার?

স্টারলিংক ব্যবহারের জন্য একটি স্টারলিংক কিট (ডিশ, রাউটার ও পাওয়ার সাপ্লাই) এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দরকার।

১৫. স্টারলিংক কি ৫জি ইন্টারনেট?

না, স্টারলিংক ৫জি নেটওয়ার্ক নয়, এটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা।

১৬. স্টারলিংক কি বৃষ্টির সময় কাজ করে?

স্টারলিংক সাধারণত বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়াতেও কাজ করে, তবে সিগন্যাল কিছুটা দুর্বল হতে পারে।

১৭. স্টারলিংক কিটের দাম কত?

স্টারলিংক কিটের দাম প্রায় $৫৯৯ (প্রথমবারের জন্য) এবং এর মাসিক ফি $৯৯-$১২০ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!