
ইসলামিক জীবন ব্যবস্থায় নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে” (সূরা নিসা, আয়াত: ১০৩)। একজন মুসলিম হিসেবে আজকের নামাজের সময়সূচি থেকে শুরু করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক ওয়াক্ত জানা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।
একনজরে আজকের নামাজের সময়সূচি
রাজধানী ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য বিভাগের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে যারা সার্চ করেন রাজশাহীতে আজকে ফজরের নামাজ শেষ কখন, তাদের জন্য সূর্যোদয়ের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Source
১. বিভাগীয় শহরগুলোর নামাজের সময়সূচি (প্রতিদিনের গড় পার্থক্য)
নিচে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের আজকের নামাজের সময়সূচি দেওয়া হলো। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সময়ের ১-৯ মিনিটের পার্থক্য হতে পারে।
| বিভাগ | ফজর (শুরু) | সূর্যোদয় (ফজর শেষ) | জোহর | আসর | মাগরিব/ইফতার | ইশা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ঢাকা | ০৫:২১ | ০৬:৪০ | ১২:১৬ | ০৪:১১ | ০৫:৫১ | ০৭:০৬ |
| রাজশাহী | ০৫:২৮ | ০৬:৪৭ | ১২:২৩ | ০৪:১৯ | ০৫:৫৫ | ০৭:১২ |
| চট্টগ্রাম | ০৫:১৬ | ০৬:৩৫ | ১২:১২ | ০৪:০৭ | ০৫:৪৭ | ০৬:৫৯ |
| সিলেট | ০৫:১৫ | ০৬:৩২ | ১২:১০ | ০৪:০৪ | ০৫:৪৪ | ০৬:৫৭ |
| খুলনা | ০৫:২৪ | ০৬:৪৩ | ১২:২০ | ০৪:১৭ | ০৫:৫৫ | ০৭:০৯ |
| রংপুর | ০৫:২৭ | ০৬:৪৬ | ১২:২১ | ০৪:১৬ | ০৫:৫৩ | ০৭:১০ |
| বরিশাল | ০৫:২০ | ০৬:৩৯ | ১২:১৬ | ০৪:১৩ | ০৫:৫২ | ০৭:০৫ |
| ময়মনসিংহ | ০৫:২২ | ০৬:৪১ | ১২:১৭ | ০৪:১১ | ০৫:৫০ | ০৭:০৬ |
২. ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ৩০ দিনের পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার (ঢাকা কেন্দ্রিক)
এই ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিদিনের সেহরি (ফজরের শুরু) এবং ইফতারের (মাগরিবের শুরু) সময়ের পাশাপাশি অন্যান্য ওয়াক্তের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। (বিঃদ্রঃ: ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরে হিসাব করা হয়েছে)
| তারিখ | বার | সেহরি/ফজর | সূর্যোদয় | জোহর | আসর | ইফতার/মাগরিব | ইশা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ০১ ফেব্রু | রবি | ০৫:২৩ | ০৬:৪২ | ১২:১৫ | ০৪:০৮ | ০৫:৪৭ | ০৭:০৩ |
| ০২ ফেব্রু | সোম | ০৫:২৩ | ০৬:৪২ | ১২:১৫ | ০৪:০৯ | ০৫:৪৮ | ০৭:০৩ |
| ০৩ ফেব্রু | মঙ্গল | ০৫:২২ | ০৬:৪১ | ১২:১৬ | ০৪:১০ | ০৫:৪৯ | ০৭:০৪ |
| ০৪ ফেব্রু | বুধ | ০৫:২২ | ০৬:৪১ | ১২:১৬ | ০৪:১০ | ০৫:৫০ | ০৭:০৫ |
| ০৫ ফেব্রু | বৃহস্পতি | ০৫:২১ | ০৬:৪০ | ১২:১৬ | ০৪:১১ | ০৫:৫১ | ০৭:০৬ |
| ০৬ ফেব্রু | শুক্র | ০৫:২১ | ০৬:৩৯ | ১২:১৬ | ০৪:১২ | ০৫:৫২ | ০৭:০৬ |
| ০৭ ফেব্রু | শনি | ০৫:২০ | ০৬:৩৯ | ১২:১৭ | ০৪:১২ | ০৫:৫২ | ০৭:০৭ |
| ০৮ ফেব্রু | রবি | ০৫:১৯ | ০৬:৩৮ | ১২:১৭ | ০৪:১৩ | ০৫:৫৩ | ০৭:০৮ |
| ০৯ ফেব্রু | সোম | ০৫:১৯ | ০৬:৩৮ | ১২:১৭ | ০৪:১৪ | ০৫:৫৪ | ০৭:০৮ |
| ১০ ফেব্রু | মঙ্গল | ০৫:১৮ | ০৬:৩৭ | ১২:১৭ | ০৪:১৫ | ০৫:৫৫ | ০৭:০৯ |
| ১১ ফেব্রু | বুধ | ০৫:১৮ | ০৬:৩৬ | ১২:১৭ | ০৪:১৫ | ০৫:৯৫ | ০৭:০৯ |
| ১২ ফেব্রু | বৃহস্পতি | ০৫:১৭ | ০৬:৩৫ | ১২:১৭ | ০৪:১৬ | ০৫:৫৬ | ০৭:১০ |
| ১৩ ফেব্রু | শুক্র | ০৫:১৬ | ০৬:৩৪ | ১২:১৭ | ০৪:১৬ | ০৫:৫৭ | ০৭:১১ |
| ১৪ ফেব্রু | শনি | ০৫:১৬ | ০৬:৩৩ | ১২:১৭ | ০৪:১৭ | ০৫:৫৮ | ০৭:১১ |
| ১৫ ফেব্রু | রবি | ০৫:১৫ | ০৬:৩২ | ১২:১৭ | ০৪:১৭ | ০৫:৫৯ | ০৭:১২ |
| ১৬ ফেব্রু | সোম | ০৫:১৪ | ০৬:৩১ | ১২:১৭ | ০৪:১৮ | ০৫:৫৯ | ০৭:১৩ |
| ১৭ ফেব্রু | মঙ্গল | ০৫:১৩ | ০৬:৩০ | ১২:১৭ | ০৪:১৮ | ০৬:০০ | ০৭:১৩ |
| ১৮ ফেব্রু | বুধ | ০৫:১২ | ০৬:২৯ | ১২:১৭ | ০৪:১৯ | ০৬:০১ | ০৭:১৪ |
| ১৯ ফেব্রু | বৃহস্পতি (১ রমজান*) | ০৫:১১ | ০৬:২৮ | ১২:১৭ | ০৪:১৯ | ০৬:০১ | ০৭:১৪ |
| ২০ ফেব্রু | শুক্র | ০৫:১০ | ০৬:২৭ | ১২:১৭ | ০৪:২০ | ০৬:০২ | ০৭:১৫ |
| ২১ ফেব্রু | শনি | ০৫:১০ | ০৬:২৬ | ১২:১৭ | ০৪:২০ | ০৬:০৩ | ০৭:১৫ |
| ২২ ফেব্রু | রবি | ০৫:০৯ | ০৬:২৫ | ১২:১৭ | ০৪:২১ | ০৬:০৩ | ০৭:১৬ |
| ২৩ ফেব্রু | সোম | ০৫:০৮ | ০৬:২৪ | ১২:১৬ | ০৪:২১ | ০৬:০৪ | ০৭:১৬ |
| ২৪ ফেব্রু | মঙ্গল | ০৫:০৭ | ০৬:২৩ | ১২:১৬ | ০৪:২২ | ০৬:০৫ | ০৭:১৭ |
| ২৫ ফেব্রু | বুধ | ০৫:০৬ | ০৬:২২ | ১২:১৬ | ০৪:২২ | ০৬:০৫ | ০৭:১৭ |
| ২৬ ফেব্রু | বৃহস্পতি | ০৫:০৫ | ০৬:২০ | ১২:১৬ | ০৪:২৩ | ০৬:০৬ | ০৭:১৮ |
| ২৭ ফেব্রু | শুক্র | ০৫:০৪ | ০৬:১৯ | ১২:১৬ | ০৪:২৩ | ০৬:০৭ | ০৭:১৮ |
| ২৮ ফেব্রু | শনি | ০৫:০৩ | ০৬:১৮ | ১২:১৬ | ০৪:২৩ | ০৬:০৭ | ০৭:১৯ |
| ০১ মার্চ | রবি | ০৫:০২ | ০৬:১৭ | ১২:১৬ | ০৪:২৪ | ০৬:০৮ | ০৭:১৯ |
| ০২ মার্চ | সোম | ০৫:০১ | ০৬:১৬ | ১২:১৬ | ০৪:২৪ | ০৬:০৮ | ০৭:২০ |
কেন নামাজের সময় একেক জেলায় ভিন্ন হয়?
পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সূর্য যখন উদিত হয়, তখন বাংলাদেশের পূর্ব দিকে (যেমন সিলেট) আগে আলো পৌঁছায়। ফলে সেখানে ফজর ও মাগরিবের সময় আগে হয়। বিপরীতে পশ্চিম দিকের জেলাগুলোতে (যেমন রাজশাহী) সূর্য কয়েক মিনিট পরে উদিত ও অস্ত যায়। একারণে রাজশাহীতে আজকে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার সময় ঢাকার চেয়ে প্রায় ৭-৯ মিনিট বেশি হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের সময়ের পার্থক্য নির্ণয় পদ্ধতি
বাংলাদেশের মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা সিলেট জেলায় সূর্য সবার আগে উদিত হয় এবং সবার আগে অস্ত যায়। অন্যদিকে, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সূর্য সবার পরে উদিত হয় এবং সবার পরে অস্ত যায়।
১. পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, খুলনা, রংপুর বিভাগ)
রাজশাহী বিভাগে বসবাসরত মুসল্লিদের জন্য একটি সাধারণ নিয়ম হলো ঢাকার সময়ের সাথে ৭ থেকে ৯ মিনিট যোগ করা। যদি কেউ জানতে চান রাজশাহীতে আজকে ফজরের নামাজ শেষ কখন, তবে তাকে ঢাকার সূর্যোদয়ের সময়ের সাথে অন্তত ৭ মিনিট যোগ করে হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার সূর্যোদয় ৬:৪০ হলে রাজশাহীতে তা হবে ৬:৪৭।
২. পূর্বাঞ্চল (সিলেট, চট্টগ্রাম বিভাগ)
সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাসরতদের ঢাকার সময়ের থেকে ৪ থেকে ৭ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। সিলেটে সূর্যের আলো সবার আগে পৌঁছায় বলে সেখানে ফজরের ওয়াক্ত ঢাকার অনেক আগেই শুরু হয়ে যায়।
৩. দক্ষিণাঞ্চল (বরিশাল ও উপকূলীয় এলাকা)
বরিশাল ও পটুয়াখালী এলাকায় সময়ের পার্থক্য ঢাকার সাথে খুব সামান্য, সাধারণত ১-৩ মিনিটের ব্যবধান থাকে।
নামাজের নিষিদ্ধ সময়সমূহ

- সূর্যোদয়: সূর্য যখন উদিত হতে থাকে, তখন থেকে পরবর্তী ২০ মিনিট পর্যন্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
- দ্বিপ্রহর (জাওয়াল): দুপুরবেলা সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকে, জোহরের ওয়াক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাজ পড়া মাকরূহ।
- সূর্যাস্ত: সূর্য ডোবার ঠিক আগ মুহূর্তে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ, তবে ওই দিনের আসর বাকি থাকলে তা দ্রুত পড়ে নেওয়া যায়।
নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার গুরুত্ব ও ফযিলত
নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি একজন মুমিনের যাপিত জীবনের শৃঙ্খলা। আল্লাহ তাআলা নামাজের মাধ্যমে বান্দার আত্মিক ও শারীরিক প্রশান্তি নিশ্চিত করেন।
-
ফজরের ফযিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মাদারিতে চলে গেল।” ভোরের নির্মল বাতাস এবং আল্লাহর দরবারে সেজদা সারাদিনের কাজের বরকত বাড়িয়ে দেয়।
-
আসরের গুরুত্ব: আসরের নামাজকে ‘সালাতুল উস্তা’ বা মধ্যবর্তী নামাজ বলা হয়েছে। এই নামাজ ত্যাগ করাকে আমল নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
জামাতে নামাজ: একাকী নামাজের চেয়ে জামাতে নামাজ আদায় করলে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আজকে নামাজের সময়সূচি হাতের নাগালে থাকায় আমাদের জন্য জামাতে শরিক হওয়া আরও সহজ হয়ে গেছে।
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা আমাদের ঈমানী মজবুতির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনকে শৃঙ্খল করে। তাই আজকের নামাজের সময়সূচি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আরো জানুন সত্যকন্ঠতে